• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

আজ ১৩ জুন: সৈয়দপুরে গোলাহাট গণহত্যা দিবস

সিসি নিউজ।। আজ ১৩ জুন। নীলফামারীর সৈয়দপুরের শোকাবহ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১সালের এই দিনে শহরের উপকন্ঠে কয়া গোলাহাট এলাকায় পৈশাচিক কায়দায় স্বাধীনতাকামী সংখ্যা লঘু ৪৪৮জন নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বর্বর হত্যাযজ্ঞের স্থানটি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত।

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্তির পর বিপুল সংখ্যক অবাঙ্গালী (উর্দূভাষী) সৈয়দপুর শহরে আশ্রয় নেয়। তারাই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এরাই ছিল হানাদার পাকবাহিনীর বিশ্বস্ত দোসর। এদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পাকহানাদার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয় সৈয়দপুর।

মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসে অবাঙ্গালীদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয় অগণিত বাঙ্গালী। এদের সঠিক হিসাব না থাকলেও বিভিন্ন সূত্রমতে এ সংখ্যা দেড় সহস্রাধিক। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন সৈয়দপুর শহরে ১৩ জুন সংঘটিত হয় সর্ববৃহৎ ও লোমহর্ষক গণহত্যা।

এদিন, শহরের বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারী পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো করা হয়। এরপর সেখানে সবাইকে একটি বিশেষ ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। পরে ট্রেনটি স্টেশন থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে শহরের উপকণ্ঠে গোলাহাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে থামানো হয়।

এরপর হানাদার পাকবাহিনীর দোসর অবাঙ্গালীরা একে একে ৪৪৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেদিনের ওই বর্বর হত্যাযজ্ঞ থেকে মাত্র ক’জন পালিয়ে বাঁচলেও সেদিনের স্মৃতি মনে করে আজো তারা আঁতকে ওঠেন। সেই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন ক’জন। দিনটি এলেই স্বজনহারা অনেকে ডুঁকরে কেঁদে ওঠেন। কেউবা নিরবে ফেলেন চোখের জল।

পাকিস্তান সেনা কর্তৃপক্ষ এ গণহত্যার নাম দিয়েছিল, ‘অপারেশন খরচাখাতা’। যদিও এই গণহত্যা ‘গোলাহাট গণহত্যা’ নামে পরিচিত। সৈয়দপুরে বাঙালি নিধনের অসংখ্য ঘটনার মধ্যে ১৩ জুন সংঘটিত ঘটনা ছিল সর্ববৃহৎ লোহহর্ষক গণহত্যা।

প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দলাল দাস বলেন, ওই ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা উর্দুতে চিৎকার করে বলতে থাকেন, একজন একজন করে নেমে আসো। তোমাদের মারতে এসেছি আমরা। তবে পাকিস্তানের দামি গুলি খরচ করা হবে না। সকলকে দায়ের কোপে বলি দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ। ধারালো রামদা দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছিল নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের গলা- এমনটাই বললেন ওই ঘটনা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া গোবিন্দলাল দাস।

ট্রেন ট্রাজেডিতে শহীদ পরিবারের সদস্য শিল্পপতি রাজ কুমার পোদ্দার বলেন, এ দিনটি আমাদের জীবনে শোকাবহ একটি দিন। দিনটি স্মরণে শহীদ পরিবারগুলো আলাদা ভাবে সন্ধ্যায় গীতাপাঠ, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হবে। এছাড়া শহীদ সন্তানের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১,স্মররিকা পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচির মধ্য রয়েছে শহীদবেদী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, মোমবাতি প্রজ্বলণ, পূজা-অর্চনা ও আলোচনা সভা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ